সাধুর ঘর (Sandhur Ghar) – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
পাকুড় গাছের তলায় সাধুর ঘরে কে যেন আগুন দিয়েছে। উত্তরে বাতাস বইছে হুহু। দুপুরের রোদে আগুনের তেমন জলুস খোলে না। তবু সাধুর ঝোঁপড়াটা রোদ খেয়ে টনটনে হয়ে ছিল বলে আগুনটা ধরেছে ভালো। কয়েকটা হালকা পাকুড় গাছটার নীচু ডালপালা ধরে ফেলল, কয়েকটা লাফ দিয়ে গিয়ে ধরল নুলো সাতকড়ির চায়ের দোকানটা। দুপুরের খর রোদেও আগুনটার লাল হলুদ রংটা ছড়িয়ে গিয়ে খোলতাই হল। হপ্তা বাজারের রাস্তায় লোক জমে গেল খুব। কর্ড লাইনের ধারের পসারিরা ছুটে এল। কে আগুন দিল? কে? সাধু লোক ভালো না। কর্ড লাইনের ধারের বেওয়ারিশ পাকুড়তলার জমি তার বাপের নয়। সরকারের। সরকারের বাঁধুনি আলগা, তাঁর কোচা দিতে কাছা খুলে যায়। তাই গভর্নমেন্টকে ছোলাগাছি দেখিয়ে বছরখানেক সাধু তার ঝোঁপড়ায় গেঁজেল তেড়েলদের আড্ড খুলেছে। মুখোমুখি একঘর পাটকল ম জ্বরের বাস। তাদের ছানাপোনা আঁতুড় থেকেই ধুলোয় গড়ায়, ধুলোমাটিতে হামা টানে। কয়েক গজ দূর দিয়ে বুক কাঁপানো মেল ট্রেন যায়, আর যায় বাহারি রাজধানী এক্সপ্রেস, নিঃশব্দে সাপের মতো চলে লোকাল। ছানাপোনারা সেইসব ট্রেনের চাকা থেকে দু-তিন গজের মধ্যে খেলাধুলা করে পাথর কুড়োয়। মায়েরা ক্ষেপও করে না। বাপেরা ছেলে...